অর্টিজম ও হোমিওপ্যাথি : লেখক অধ্যাপক ডাঃ এম এ ফজল

0

Picture

অর্টিজম কি?
সামগ্রিক ভাবে শারিরিক মানসিক ও ব্রেনের ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধকতা যাহা শিশুর জন্মের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে কতিপয় অস্বাভাবিক লক্ষনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় ।
A Group of complex brain development disease and behavior social interaction verbal and non-verbal communication and repetitive behavior. (তথ্য আন্তজার্তিক ডায়াগনস্টিক ম্যনু)
সুতরাং অর্টিজম হচ্ছে শারিরিক ও মানসিক ত্রুটি যাহা জন্মগত ত্রুটি বলে প্রতিয়মান হয় যদিও বা এখনও পর্যন্ত কোন বৈজ্ঞানিক কারন প্রতিষ্ঠিত হয় নি।

হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভংগিতে অর্টিজম হচ্ছে মায়াজম ( সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস, টিউবারকুলোসিস ) জনিত মানসিক ও শারিরিক ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত নারী পুরুষের সন্তানগণের মধ্যে অর্টিজম প্রবনতা । ইহাছাড়া জন্মকালিন জটিলতার কারনে শিশুর অর্টিজম হতে পারে। হিষ্ট্রি নিয়ে দেখা গেছে শিশু জন্মকালিন এমিনিওটিক ফ্লুইড স্বল্পতা, বাধাজনিত প্রসব অথবা প্রসবকালিন শিশুর মস্তিস্কে আঘাত ও মায়ের অপুষ্টিজনিত ইতিহাস পাওয়া যায়। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দ্বারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে এ রোগ খুব দ্রুত ভাল করা সম্ভব।

যে সমস্ত ফ্যাক্টরগুলো অর্টিজমের জন্য দায়ী তাহা নিম্নরূপ:-
জন্মকালিন ও তার পূর্ববর্তী ফ্যাক্টরঃ- বিবাহজনিত সম্পর্ক সাধারণত নিকট আত্মীয় যথা চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহজনিত সম্পর্ক ও তাদের সন্তানদের মধ্যে অর্টিজম প্রবনতা।
শিশুর জন্মের সময় এমোনিওটিক ফ্লুইড স্বল্পতা ও দেরিতে প্রসব, বাধাযুক্ত প্রসব, প্রসবের সময় শিশুর মাথায় আঘাত লাগা অথবা ইমম্যাচিউর্ড শিশু এবং মায়ের অপুষ্টিজনিত কারনে শিশুর অর্টিজম হতে পারে। ফরসেফ ডেলিভারি থেকেও শিশুর অর্টিজম হতে পারে।

বংশগত ইতিহাসঃ- সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস, টিউবারকুলোসিস মায়াজম আক্রান্ত নারী পুরুষের সন্তান ও তাদের বংশ পরষ্পরায় মস্তিস্ক বিকৃতি ইতিহাস তথা সিজোফ্রেনিক ও বিভিন্ন মানসিক গোলযোগের ইতিহাস থাকে। তাদের সন্তানগন অর্টিজম প্রবণতা প্রাপ্ত হয়।

তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক কি কারনে অর্টিজম হয় তা নির্নয় করা সম্ভব হয় নি, গবেষণা চলছে।

প্রারম্ভিকভাবে নি¤œলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা সহজে অর্টিজম নির্নয় করা যায়-
মানব মাত্রই মন আছে, হোক সে শিশু অথবা বৃদ্ধ- সদ্য ভুমিষ্ঠ শিশুরও একটি মন আছে, শিশুর এই মনটা একটা পরিপক্কমন কিন্তু দৈহিক দূর্বলতার কারনে তার মনের পরিপক্কতা প্রকাশ পায় না তাই আমরা তাকে শিশু মন বলি। শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মনের গতিপ্রকৃতি ও পরিধি বাড়তে থাকে যেমন সদ্য ভুমিষ্ঠ একটি শিশু তার কান্না দিয়ে মনের অবস্থা প্রকাশ করে এবং সময় গড়ানোর মধ্য দিয়ে তার মনের বিকাশ হতে থাকে। মন থেকেই মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয় অর্থাৎ মানসিক অবস্থা হচ্ছে মনের ব্যাপক পরিধি যেমন ইচ্ছা, আবেগ, অনুভুতি, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে এ বিষয়গুলো প্রকাশ পেতে থাকে । এগুলোর ত্রুটি হলে শিশু অর্টিজম বা প্রতিবন্ধি হতে পারে।

নিম্নলিখিত মানসিক ফ্যাক্টরগুলোর দ্বারা শিশুর অর্টিজম হওয়া বা না হওয়া সহজেই নির্নয় করা সম্ভব।
শিশুর কান্না- যদি শিশুর জন্মের পরে দুই ঘন্টার মধ্যে তার কান্না প্রকাশ না পায় তাহলে শিশুর অর্টিজম হতে পারে।
হাসি- শিশুর জন্মের তিন সপ্তাহের মধ্যে তার মুখে হাসি ফুটে উঠবে যদি এ রকম প্রভাব লক্ষ্য করা না যায় তবে শিশুর অর্টিজম হতে পারে।
সঞ্চালন- শিশুর হাত-পা নাড়াচড়া চোখের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি ডাক দিলে শিশু তাকাবে ও চোখে মুখে কৌতুহল ফুটে উঠবে। এরূপ না হলে শিশু প্রতিবন্ধি হওয়ার ঝুকি থাকে।
বয়স- শিশুর বয়স তিন মাস হলেই শিশু কোন কিছু ধরতে শিখবে, যেমন কোন দাঁড়িওয়ালা লোক শিশুকে কোলে নিলে শিশু তার দাঁড়ি ধরবে। ৫ থেকে ৬ মাস বয়স হলে শিশু কোন বস্তু বা খেলনা নিজের করে নিতে চাইবে তা না হলে শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা হচ্ছে বলে ধরে নিতে হবে।
ঘুম- জন্মের পরে শিশু সাধারণত ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটায় এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে শিশুর কোন রোগ যন্ত্রনা আছে বলে ধরে নিতে হবে।
সর্বোপরি পারিবারিক নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ বজায় রাখা বা থাকা শিশুর মানসিক ও শারিরিক বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে।
আর একটি বিষয় শিশু অনেক সময় হাতের কাছে আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলতে পারে কিন্তু তার জন্য শিশুকে ধমকানো বা মারধর করা যাবে না। তাহলে শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ হতে পারে না। ফলে শিশুর মানসিক ও মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যাহা পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
শিশুর মুখ থেকে অবিরাম লালা নিঃস্বরন হতে থাকলে শিশুর অর্টিজম হওয়ার প্রবণতা থাকে।

শিশুর জন্মের ২ থেকে আড়াই বছরের মধ্যে উক্ত প্রকার অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো দেখা গেলে শিশুর অর্টিজম হওয়ার ঝুকি থাকে। সাথে সাথে যে কোন বিশেজ্ঞ ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হতে হবে। অনেকে বলে থাকেন জন্মের পর আমার শিশু স্বাভাবিক ছিল এটা ঠিক না কোন না কোন অস্বাভাবিক ফ্যাক্টর শিশুর জন্মের ২ বছরের মধ্যে বিদ্যমান থাকবেই।

চিকিৎসা-দেশে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি হোমিও চিকিৎসা খুবই সুফলদায়ক। হোমিও চিকিৎসা যেহেতু লক্ষনভিত্তিক সেহেতু অভিজ্ঞ ডিগ্রীপ্রাপ্ত ডাক্তার শিশুকে পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন শিশু অর্টিজম প্রাপ্ত হবে কিনা। শুরু থেকে রোগ নির্নয় করা গেলে হোমিও চিকিৎসায় অর্টিজম শিশু আরোগ্য করা সম্ভব।

ঔষধ সমূহ- লক্ষণ অনুসারে নিন্মলিখিত ঔষধগুলো প্রয়োগ করা যেতে পারে-

জন্মকালিন সময় আঘাত ও বাধাজনিত প্রসবের ক্ষেত্রে- Arnica mont, Rhustox, Ledum, Hypericum খুবই সুফলদায়ক ঔষধ। পিতা মাতার ইনফেকশান জনিত কারন থাকলে Mederrhorinium, Syphilinium, Marcsol, Calcariea carb, Baryta carb, Zinccumphos, Thuja, Argentum met,
অপুষ্ঠিজনিত কারনে China, Alfalfa, Abrotanum, Kaliphos, Calcariea phos, Magphos.

ঔষধের মাত্রা ও শক্তি ডাক্তার নির্ধারণ করিয়া প্রয়োগ করিবেন-
শিশুর পিতা মাতা পূর্ব থেকে সচেতন হলে সহজে অর্টিজম প্রতিরোধ করতে পারেন।
পরবর্তী প্রকাশে লক্ষণ ভিত্তিক ঔষধ নির্নয় ও চিকিৎসার বিস্তারিত বর্ননা প্রকাশ করার আশা রইল।

অধ্যাপক ডাঃ এম এ ফজল
বিএইচএমএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
সনোলজিষ্ট (সিএমইউ) কনসালটেন্ট অব ক্রনিক ডিজিজ
মোবাইল-০১৯২৫-৫০৮৫০৫

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *